নির্বাণ ও মৈত্রীর পথ: গৌতম বুদ্ধের কালজয়ী শিক্ষা
অধ্যাপক সুমেধানন্দ মহাথের
জগতে হিংসা, ক্রোধ আর অশান্তির দাবানলে যখন মানবতা বিপর্যস্ত, তখন গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও মৈত্রীর বাণী আমাদের দেখায় এক প্রশান্তির পথ। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার বজায় রাখার মাধ্যমেই প্রকৃত মুক্তি সম্ভব। মহামতি বুদ্ধের দর্শন কেবল একটি ধর্মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সর্বজনীন ও মানবিক।
নিচে বুদ্ধের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিছু নৈতিক উপদেশ তুলে ধরা হলো:
বিজয় ও মহানুভবতা:
মৈত্রী দ্বারা ক্রোধকে জয় করতে হবে। অসাধুকে জয় করতে হবে সাধুতা দিয়ে, কৃপণকে দান দিয়ে আর মিথ্যাবাদীকে সত্যের শক্তিতে।
অপ্রমেয় মৈত্রী:
মা যেমন নিজের জীবন দিয়ে তার একমাত্র সন্তানকে রক্ষা করেন, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর প্রতি আমাদের ঠিক সেইরূপ গভীর মৈত্রীভাব পোষণ করা উচিত।
অন্তরশত্রু ত্যাগ:
রাগের চেয়ে ভয়ংকর কোনো আগুন নেই, আর তৃষ্ণার মতো উত্তাল কোনো নদী নেই। তাই শান্তি পেতে হলে রাগ, দ্বেষ, মোহ ও অতিরিক্ত তৃষ্ণা পরিহার করা জরুরি।
অহিংসা:
মৃত্যু আর দণ্ডকে সবাই ভয় পায়, জীবন সবারই প্রিয়। তাই নিজের জীবনের সাথে তুলনা করে অন্য কোনো প্রাণীকে আঘাত বা হত্যা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
পরম সুখের উৎস:
সুস্বাস্থ্যই হলো পরম লাভ, আর সন্তুষ্টিই জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় আত্মীয় এবং নির্বাণ হলো সর্বোচ্চ সুখ।
মঙ্গলের পথ:
পিতা-মাতার সেবা করা, পরিবার ও পরিজনদের পাশে থাকা এবং সততার সাথে জীবিকা নির্বাহ করাই হলো প্রকৃত মঙ্গল।
আত্ম-সংযম:
নিজের মন বা চিত্ত যদি সঠিক পথে পরিচালিত হয়, তবে তা বাবা-মা বা আত্মীয়র চেয়েও বেশি উপকার করতে পারে। মনে রাখতে হবে, নিজেই নিজের ত্রাণকর্তা; নিজেকে সুসংযত করতে পারলেই নিজের মাঝে সঠিক আশ্রয় পাওয়া যায়।
জ্ঞানের জয়:
জ্ঞানী ব্যক্তি সর্বদা বিজয়ী হন এবং যিনি ধর্মকে ভালোবাসেন তার বিনাশ নেই। অন্যদিকে, ধর্ম বা ন্যায়ের প্রতি যার হিংসা, তার পরাজয় অনিবার্য।
এই শিক্ষাগুলো আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে ধারণ করতে পারলে সমাজ থেকে অরাজকতা দূর হয়ে এক শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব।
সংগ্রহ ও সংকলন: অধ্যাপক সুমেধানন্দ মহাথের
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভা।
সূত্র: পোস্টটি ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ পত্রিকার সোশ্যাল মিডিয়া টিম।
মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।